ব্রেকিং

x

আজমতকে তলব, জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র বাতিল

আজমতকে তলব, জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র বাতিল
আজমত উল্লা খান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র গতকাল যাচাই-বাছাইয়ের সময় বাতিল করা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন বলে জানা গেছে। তবে জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর গতকাল নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের জানান, গত বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে কেন আজমত উল্লার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে না অথবা তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে ৭ মে বিকাল ৩টায় নির্বাচন কমিশনে এসে তাকে সশরীরে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ইসি আলমগীর জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং অন্য নির্বাচন কমিশনাররা বসে কারণ দর্শাও নোটিস ও ইসির নির্দেশনাসহ চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে ‘মহড়া’ বা প্রার্থীর সঙ্গে পাঁচজনের বেশি লোক না রাখার নির্দেশনা থাকলেও আজমত উল্লাকে দলবলসহ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা যায়। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সকালেই হাজার হাজার নেতা-কর্মী ভিড় জমান।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন নেতা-কর্মীরা। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মোনাজাত হয়। এরপর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহরের রথখোলা এলাকায় বঙ্গতাজ মিলনায়তনে স্থাপিত নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান আজমত উল্লা। যাওয়ার পথে কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন।

এসব কারণে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেন।

এদিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ধার্য দিনে গতকাল স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিলের কারণ হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, একটি গার্মেন্ট কারখানার ঋণের গ্যারান্টার ছিলেন জাহাঙ্গীর। ওই প্রতিষ্ঠানটি ঋণ খেলাপি হওয়ায় গ্যারান্টার হিসেবে জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়। এ ছাড়া দুজন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজীপুর শহরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে স্থাপিত গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলকারী সব মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থী ছাড়াও তাদের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ১২ জনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদেরও মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাইরে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খান, জাতীয় পার্টির এম এম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, জাকের পার্টির মো. রাজু আহম্মেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন, সরকার শাহনুর ইসলাম, মো. হারুন অর রশীদ, জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যে ঋণখেলাপির অভিযোগে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, সেই ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি ব্যাংক কর্মকর্তারাও নির্বাচন কর্মকর্তাকে নিশ্চিত করেছেন। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী জামিনদার কখনো ঋণখেলাপি হয় না। তাছাড়া খেলাপি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ঋণ পুনঃতফসিলিকরণের জন্য ইতোমধ্যে কিস্তির টাকা জমা দিয়েছে এবং আবেদন করেছে। আমি একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বাঁচানোর জন্য মানবিক কারণে আমার নিজের জমি বন্ধক রেখেছিলাম। আমি ওই টাকা নিজের জন্য নেইনি এবং প্রতিষ্ঠানটি ঋণের টাকা পরিশোধ করেছে।

জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের আরও বলেন, ‘গত ১১ ও ১৮ এপ্রিল কোরিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের যে পাওনা ছিল তা পরিশোধ করেছে। সেসব ডকুমেন্ট আমার আইনজীবী ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমা দিয়েছে। যেহেতু ব্যাংক টাকা পাবে, তাকে টাকা দেওয়াও হয়েছে; কিন্তু তারা সিআইবির নাম দিয়ে আমার নমিনেশন বাতিল করলেন। ’ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ন্যায়বিচার চাই। আমি আপিল করব। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টে যাব।

আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খান বলেন, ‘আমি গাজীপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই এই নগর আমাদের। এই নগরকে সমৃদ্ধ এবং সুষম করার দায়িত্ব আমাদের। সেই লক্ষ্যেই এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি।

জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এম এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে সেটি আমরা আশা করি। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করি।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট অনুযায়ী স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম যে প্রতিষ্ঠানের জন্য জামিনদার হয়েছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হওয়ায় তার (জাহাঙ্গীর) মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ৩০০ জন ভোটারের স্বাক্ষরের শর্তপূরণ করতে না পারায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ অলিউর রহমান ও যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় মো. আবুল হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে ইসির চিঠি : গাজীপুর সিটি নির্বাচনে প্রচার ও নির্বাচনী কাজে অংশ না নিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেলকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত চিঠিটি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব বরাবর পাঠানো হয়।

মাঠে থাকবেন জাহাঙ্গীর আলমের মা : আপিলের পর জাহাঙ্গীর আলম প্রার্থিতা ফিরে না পেলে নির্বাচনী মাঠে থাকবেন তার মা জায়েদা খাতুন। তিনি বলেন, আমার ছেলেন প্রতি একের পর এক অন্যায় হয়েছে। আমি গাজীপুরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অন্যায় ও অবিচারের জবাব দিব।

Development by: webnewsdesign.com