ব্রেকিং

x

গনপূর্তের সিভিল ও ইএম শাখায় চলছে লুটপাটের মহোৎসব

গনপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতিবাজ চক্র এখনও অধরা

শনিবার, ০৯ মার্চ ২০২৪ | 14 বার

গনপূর্ত অধিদপ্তরে দুর্নীতিবাজ চক্র এখনও অধরা

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে গণপূর্ত অধিদপ্তর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ ও তার সংস্কার কাজের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়টির উপর নজরদারী ও ক্ষমতার ভাগ বসাতে দেশের ক্ষমতাশীলরা সর্বদাই তৎপর থাকে।

এই মন্ত্রণালয় ঘিরে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ সম্পাদন হয়। আর এ কারণেই এই মন্ত্রণালয়টি অন্যান্য মন্ত্রণালয় থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের নিকট।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলেও বাস্তবিক অর্থে তা নিয়ে বিভাগীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার নজির তেমন একটা নাই বললেই চলে।

প্রতিদিনই কোন না কোন গণমাধ্যমে উঠে আসছে দুর্নীতি আর অনিয়মের চিত্র। দিন দিন বাংলাদেশ যেখানে উন্নতির দিকে অগ্রসরমান হচ্ছে, সেখানে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দেশের উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে এর সাথে সম্পৃক্ত ঠিকাদার ও কিছু দুর্নীতি পরায়ণ প্রকৌশলী শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। এই কার্যক্রম অতীতেও ছিলো এবং বর্তমানেও চলমান আছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গণপূর্ত অধিদপ্তরে অভ্যন্তরীন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ও সচিব বরাবরে যে সুপারিশ মালা দিয়েছে তা যদি বাস্তবিক অর্থে পালিত হতো তাহলে আর দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও প্রকৌশলীগন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম করার সাহস দেখাতে পারত না।

গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়ে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত দু’তিনটি সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদের আলোচনার পর দেশ জুড়ে এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম নিচ্ছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর ঘিরে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থেকেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছিল। আর এই সিন্ডিকেটকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে থাকা শক্তিশালী একটি গ্রুপ কাজ করছিল।

তবে আশার কথা হচ্ছে, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়। দায়িত্বভার গ্রহনের প্রথমদিনেই গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন অধিদপ্তরের একাধিক সভাতেও দুর্নীতিবাজ ও তেলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে মন্ত্রী ও সচিবকে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তার অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে।

ইতিমধ্যে গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ে দীর্ঘদিন রাজত্ব করা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গুড়িয়ে দিতে মন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও একাধিক প্রকৌশলীকে বদলী করা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অন্যান্য প্রকৌশলীরা এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

কাজ করার পূর্বেই ঠিকাদারকে ১০ কোটি টাকার অধিক অগ্রীম প্রদান করার মত ঘটনা সংগঠিত হয়েছে গনপূর্ত অধিদপ্তরে। এই ঘটনায় ফুটে উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি। অনিয়ম সামাল দিতে যেয়ে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লঘু দন্ড প্রদান করতে হয়েছে।

অন্যদিকে, গনপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রভাবশালী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ার পরও বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহনে চার মাস বিলম্ব হয় অদৃশ্য সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপটের কারনে।

আরেকদিকে, কমিশনের বিনিময়ে কাজ প্রদান, উন্নয়ন কাজ না করেই সরকারি বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়ে ঠিকাদারের সাথে ভাগাভাগি করার অভিযোগ রয়েছে একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। চাকুরী জীবনে অসততার আশ্রয় নিয়ে অঢেল ধন সম্পদের মালিক হয়েছেন এসকল দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী।

কেস স্টাডি: ১

বিগত ২৫ জানুয়ারি মোঃ ফজলুল হক; নির্বাহী প্রকৌশলী, শেরেবাংলা নগর বিভাগ-১ ঢাকায় কর্মকালীন সময়ে “ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট এন্ড হাসপাতাল” নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় বিলে ১০৪৪.৯০ লাখ টাকা M/S/GKBPL-PAEL ঠিকাদারকে অগ্রিম প্রদান করেন যদিও গণপূর্ত অধিদপ্তর ঠিকাদারের অন্যান্য প্রকল্পসহ বর্ণিত প্রকল্পের Retention on Money হতে ১০৪৪.৯০ লাখ টাকা কর্তন করে সরকারের কোষাগারে জমাদান পূর্বক ঠিকাদারকে প্রদত্ত অগ্রিম টাকা সমন্বয় করা হয়।

সেই কারণে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে গুরুদন্ড প্রদান না করে লঘুদন্ড প্রদান করে। কারণ সংশ্লিষ্ট অর্থ সমন্বয় করায় রাষ্ট্রও বড় ধরনের ক্ষতি হতে রক্ষা পায়।

তবে, এই সংবাটি নিয়ে সংসদে ব্যাপক ঝড় তুলেছেন একজন সংসদ সদস্য। তার মতে, কাজ করার পূর্বেই ঠিকাদারকে ১০ কোটি টাকার অধিক অগ্রীম প্রদান করার অর্থই হলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি। এই কারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লঘু দন্ড প্রদান করে গৃহায়ণ ও গনপূর্ত মন্ত্রণালয় পরোক্ষভাবে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিয়েছে। এনিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।

ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অতীতে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তার মতো একজন দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার পরও লঘু দন্ড প্রদান কোনভাবেই কাম্য নয় বলে মনে করেন মন্ত্রনালয়ের সাধারন কর্মকর্তারা।

অভিযুক্ত মোঃ ফজলুল হককে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৪ এর উপবিধি-২ এর (ঘ) অনুযায়ী বেতন গ্রেডের নিম্নতর ধাপে অবনমিতকরণ অর্থাৎ তার বর্তমান বেতন গ্রেডের প্রারম্ভিকভাবে নামিয়ে দেয়ার দন্ড প্রদান করে। এই আদেশ জারী হওয়ার পর থেকে দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কেস স্টাডি: ২

দুদকের দায়ের করা মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে।

বর্তমানে তিনি বরিশাল গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে কর্মরত। এর আগে তিনি ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর মামলা নং -২, তারিখ: ৫-৮-২০২০ এ দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) নং ১১৭, তারিখ: ২১-৮-২০২৩ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক গত ১০-১০-২০২৩ তারিখে গৃহীত হয়েছে। তাকে সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ৩৯ (২) অনুযায়ী ১০-১০-২০২৩ তারিখ থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

চার মাস আগে এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হলেও এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০২০ সালের ৫ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির কর্মকর্তা নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে উৎপল কুমার ও তার স্ত্রী গোপা দের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমের সঙ্গে যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৮০ টাকার সম্পদ অর্জন করার কথা বলা হয় উক্ত মামলায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রাখেন।

পরে এসব সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/স্থানান্তর/হস্থান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

উৎপল কুমার দে একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এক কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি তা নিজ ভোগ দখলে রাখেন।

তদন্তকালে আসামি উৎপল কুমার দের নামে অর্জিত সম্পদের বিপরীতে তার বেতন-ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি।

এর আগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোকাণ্ডে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এতে নাম আসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর।

এসকল নির্বাহী প্রকৌশলী মূলত গনপূর্ত অধিদপ্তরের সিভিল ও ইএম শাখায় দীর্ঘদিন একই পদে চাকুরী করছেন। এই দুই শাখায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তারা নামে বেনামে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। বিদেশেও পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।

নগর গনপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর, উপদপ্তর, বিভিন্ন সার্কেল এবং সিভিল ও ইএম শাখায় দীর্ঘদিন ধরে সংগঠিত নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অজস্র তথ্যপ্রমান ‘দ্যা ফিন্যান্স টুডে’র অনুসন্ধানী টীমের হাতে এসেছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা এই সকল অনিয়মের সুরাহা চাইলেও সফল হননি ওপরের সমর্থন না থাকার কারণে। তবে নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ায় এখন কর্মকর্তারা আশাবাদী গণপূর্তের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের এমন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে শত শত অভিযোগ জমা পড়লেও অদৃশ্য কারণে দুর্নীতির এই মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, ‘যারা অনিয়ম করছে তাদের আমরা ছাড় দিচ্ছি না। এমনকি অন্যায় করে যারা আগে নানাভাবে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাদের নতুন করে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অন্যদিকে, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তার দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

মন্ত্রী বলেন, যারা দুর্নীতি করবে তাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের যে আইন আছে কিংবা দুর্নীতি দমন কমিশনের যে আইন আছে সে আইন দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূলত কয়েকজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং বিএনপি-জামাতের অনুসারী কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীর সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট আগের মেয়াদে গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ও তার আশপাশের লোকজনের আশির্বাদ পেয়ে গণপূর্তের প্রায় সব বদলি, টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেছেন। কাকে কোথায় দিতে হবে, কাকে সরাতে হবে সব এরাই করেছেন।

মন্ত্রী পাশে থাকায় সচিবও তাদের অনিয়মের বিষয়ে চাইলেও তেমন কিছু করতে পারেননি। অবৈধ কাজ করে এই চক্রটি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট এতটাই বেপরোয়া যে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অধিদপ্তরকে জিম্মি করে রেখেছে।

দুর্নীতিপরায়ণ ও সিন্ডিকেটের সাথে নামে বেনামে ঠিকাদারী ব্যবসায় সম্পৃক্ত রয়েছেন এমন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকৌশলীর আমলনামা ও অবৈধ সম্পদের তালিকা “দ্য ফিন্যান্স টুডে” অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘দ্যা ফিন্যান্স টুডে’র একটি চৌকস টীম গভীর অনুসন্ধান শুরু করেছে। পর্যায়ক্রমে এদের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

সরকারের বর্তমান মেয়াদে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একজন বিচক্ষণ সাবেক আমলা যিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জানেন মন্ত্রণালয়ের কোন কোন পর্যায়ে দুর্নীতি হয়। দেশবাসীর প্রত্যাশা তিনি ঢেলে সাজাবেন তার মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তর সমূহকে।

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হলে সর্বপ্রথম মন্ত্রণালয়ের ভেতর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সর্ষের মধ্যে ভূত রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে সর্বপ্রথম সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত যেই থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

Development by: webnewsdesign.com