ব্রেকিং

x

প্রতারণার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামে প্রতারণা ?

মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০২৩ | 21 বার

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নামে প্রতারণা ?

“রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মানবাধিকার কমিশনের নামে জনগণের সাথে প্রতারণা ও অর্থ আদায় করছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামের একটি বেআইনি সংস্থা। মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ অনুসারে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। উক্ত আইনের ২ (ক) ধারা মতে ‘কমিশন’ অর্থ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তবে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামের একটি বেসরকারি সংস্থার লোকজন তাদের সংস্থার নামের সাথে ‘কমিশন’ শব্দটি ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নিকট উক্ত সংস্থাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা মর্মে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।  দেশের জনসাধারণ এমনকি সরকারি/ বেসরকারি সংস্থা এমনকি গণমাধ্যমও নামসর্বস্ব ভুঁইফোড় মানবাধিকার সংগঠনের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। এবিষয়ে সকলকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে”।

আজ দুপুর ২.৩০ ঘটিকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলন কক্ষে মানবাধিকার কমিশনের নামে বিভিন্ন বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা প্রতারণার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে এসব কথা বলেন, ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ। এতে ‍আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য মোঃ সেলিম রেজা, সচিব জনাব নারায়ণ চন্দ্র সরকার, পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) জনাব মোঃ আশরাফুল আলম, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব কাজী আরফান আশিক, উপপরিচালক জনাব এম. রবিউল ইসলাম এবং উপপরিচালক ফারহানা সাঈদ।

এ প্রেক্ষাপটে, কমিশন থেকে বেসরকারি সংস্থা কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের নিবন্ধনকারী সংস্থা এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর ও সমাজসেবা অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হলে গত ০২/০৭/২০২০ তারিখে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, গত ০৮/০৬/২০২০ তারিখে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের নিবন্ধন বাতিল করে। গত ০৫/১১/২০২০ তারিখে সমাজসেবা অধিদপ্তর বেসরকারি সংস্থার নামের শেষে কমিশন/কাউন্সিল ইত্যাদি শব্দ থাকলে তা বাদ দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করে।

এছাড়াও, কথিত ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’ তার নামের শেষে ‘কমিশন’ শব্দটি এবং নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে BHRC শব্দটি ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং প্রিন্ট মিডিয়া কোথাও ব্যবহার করতে পারবেনা মর্মে মহামান্য হাইকোর্ট রুল নিশি জারি করে ও নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করে। যা আপিল বিভাগও বহাল রাখে। ফলে কথিত ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’ নামে কোন কার্যক্রম চালালে তা অবৈধ হবে। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামক বেসরকারি সংস্থার মহাসচিব সাইফুল ইসলাম দিলদার ও তার লোকজন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা ও এর বিচার করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করা, এছাড়াও ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে পত্র প্রেরণ, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সদস্য সংগ্রহ, কমিটি গঠন, যুক্তরাজ্যে মানবাধিকার কনভেনশনের নামে মানবপাচার কাজে প্রলুব্ধ করাসহ নানা অপতৎপরতা চালিয়ে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করছে।

বিজ্ঞ আদালত সংস্থাটির নামের শেষে ‘কমিশন’ ও সংক্ষেপে BHRC শব্দ দুটি কোথাও ব্যবহার করতে পারবে না মর্মে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা সত্ত্বেও উক্ত আদেশ অমান্য করে ক্রমাগত তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এর ওয়েবসাইট (www.nhrc.org.bd) এর আদলে (www.bhrc.bd.org) ওয়েব সাইট তৈরী করতঃ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করে যাচ্ছে। এছাড়া তারা (www.bhrc.bd.org) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। উক্ত সংস্থার মহাসচিব জনৈক সাইফুল ইসলাম দিলদার তাদের নিজস্ব ফেইসবুক পেইজ ও ওয়েব সাইট এ যুক্তরাজ্য মানবাধিকার কনভেনশন -2023 নামে একটি গণবিজ্ঞাপন প্রচার করে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হবে বলে লোক সংগ্রহ করছে। এছাড়া উক্ত সংগঠনের সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে পতাকাস্ট্যান্ড ও বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত সোনালী রং এর প্রতিক যার ভিতরে প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (Bangladesh Human Rights commission President) ও সংক্ষেপে BHRC শব্দ ব্যবহার করে নিজেদেরকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। সাইফুল ইসলাম দিলদার ও তাদের সহযোগীরা ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক প্রতারণার মাধ্যমে ফেইসবুক পেইজ ও ওয়েবসাইটে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জনসাধারণকে প্রতারণাপূর্বক ক্ষতিসাধনের লক্ষ্যে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রেসিডেন্ট/মহাসচিব/সচিব রুপে কর্মকান্ড করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। উক্ত বিজ্ঞাপন গত ০৪/০৬/২০২৩ ইং তারিখ কমিশনের নজরে আসে এবং অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা ও প্রচেষ্টা চালানোর জন্য দন্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারা ও তৎসহ মানব পাচার আইনের 8(১)/৮(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয় এবং কথিত বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মালিবাগস্থ অফিসে অভিযান চালিয়ে মহাসচিব সাইফুল ইসলাম দিলদারসহ তার ছয়জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এছাড়াও, কমিশন শব্দ ব্যবহার করে আরও কিছু কথিত বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে।

মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ প্রতিপালনের নিমিত্ত নিবন্ধন বাতিলকৃত কথিত ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’ নামক বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রমের বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং উক্ত সংস্থার নামে পরিচালিত কার্যক্রমের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য গণমাধ্যমসহ সকলকে অনুরোধ করা হল।

Development by: webnewsdesign.com