ব্রেকিং

x

পিরোজপুর জেলা আ.লীগের সা.সম্পাদক এ্যাড.কানাই লাল বিশ্বাসকে নাজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের প্রকাশ্যে উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য প্রদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শুক্রবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৩ | 40 বার

পিরোজপুর জেলা আ.লীগের সা.সম্পাদক এ্যাড.কানাই লাল বিশ্বাসকে নাজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের প্রকাশ্যে উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য প্রদানের প্রতিবাদে মানববন্ধন

অদ্য ০৩ নভেম্বর ২০২৩ খ্রি: তারিখ—পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. কানাই লাল বিশ্বাসকে নাজিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু প্রকাশ্যে সভায় কুরুচিপূর্ণ—মানহানিকর ও উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য প্রদানের প্রতিবাদে এবং পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানির স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আলমগীর হোসেন মুক্তিযোদ্ধা পরিতোষ হালদারকে সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ ও মেরে ভারতে পাঠানোর এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে হিন্দু নির্যাতনের বিচারের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর, ঢাকায় বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দীপুর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সভাপতি অনুপ কুমার দত্ত, গৌরঙ্গ মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার, মুখপাত্র এ্যাড. সুমন কুমার রায়, এ্যাড. সুবত, দেবাশীষ পান্ডে, এ্যাড. সজীব বিশ্বাস, তপন কুমার মন্ডল, পল্টন কুমার দাস, সুমন দাস, উমেশ দাস, বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের মনীষ বালা, অমিত বর্মন, বিশ্বজিৎ সরকার, রুপম সরকার, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র পরিষদের সভাপতি দেবব্রত নন্দী, সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কর্মকার, জুয়েল দেব। আরও উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র নাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক বিবেকান্দ গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ শাখা এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচি সভাপতি দীপঙ্কর শিকদার দীপু বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত হচ্ছি। বিচার চেয়েও আমরা বিচার পাচ্ছিনা। আমরা হিন্দুরা শতভাগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করলেও আজ আমরা অবহেলিত। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুরা নির্যাতিত হচ্ছে,মঠ মন্দির প্রতিমা ভাংচুর হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. কানাই লাল বিশ্বাসকে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে বলেন, জানতে পারলাম পিরোজপুরে এ্যাড. কানাই লাল বিশ্বাসকে নাজিরপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু প্রকাশ্যে সভায় মানহানিকর উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য প্রদান করেন, এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং কয়েকদিন পূর্বে একই জেলায় ইন্দুরকানিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মুক্তিযোদ্ধা পরিতোষ হালদারকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে সাম্প্রদায়িক গালিগালাজ ও জুতাপেটা করে ভারতে পাঠানোর হুমকি এবং নোয়াখালি জেলার হাতিয়া ৮নং সোনাদিয়ায় সহদেব রায়ের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও তার মাকে হামলা করে রক্তাক্ত করে। এর বিরুদ্ধে মামলা হলেও আসামি আজও গ্রেফতার হয়নি। অপরাধীদের বিচারের দাবি জানাই। আমরা মনে করি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন হলে সংখ্যালঘু নির্যাতন করতে অপরাধীরা সাহস পাবে না।

মুখপাত্র সুমন কুমার রায় বলেন, দেশের আইনের চোখ সংখ্যালঘুদের উপর কুনজর দিয়ে রেখেছে। শতশত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মিথ্যা ধর্মীয় অযুহাতে জেল খাটছে, অথচ প্রকাশ্যে ধর্মীয় আলোচনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ও তদের দেব দেবীকে নিয়ে কটূক্তি করা হচ্ছে। তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি দ্বারা আওয়ামী লীগ কর্মীরাই নির্যাতিত হচ্ছে। কিন্তু একটা ঘটনারও সঠিক বিচার পাচ্ছে না। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সাহেব ২৮ অক্টোবর, বিএনপির সমাবেশের অরাজকতা ঘিরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপিকে বাংলাদেশে রামরাজত্ব কায়েম করতে দিবেন না। রামরাজত্ব বলতে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন তা আমাদের বোধগাম্য নয়। রামরাজত্ব মানে সুশাসন বা কল্যাণ রাষ্ট্র। একজন রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে এ ধরনের বেফাঁস মন্তব্য সনাতনী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। সুস্থ্য মস্তিষ্কের কোন ব্যক্তি এ ধরণের মন্তব্য করতে পারে না। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে এই ধরনের মন্তব্য প্রত্যাহার করে সনাতনী সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে সনাতন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জন্য আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমরা সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতাকে অত্যন্ত ঘৃণা ও নিন্দা জানাই।

সমাবেশের সম্মানিত সভাপতি দিপাঙ্কর সিকদার দিপু বলেন, আজ আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আজ থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে অন্যায় সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ।
বিবেকান্দ গবেষণা কেন্দ্রের বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, পিরোজপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর আপন ফুফাতো ভাই হওয়ায় এই ধরণের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে সাহস পাচ্ছে এবং মন্ত্রীর প্রশ্রয়ে ঐ অঞ্চলে সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচার নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এমনি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর বাসার কাজের লোকের ভাইয়ের দ্বারা নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। আমরা এই সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও তাদের বক্তব্যে হিন্দুদের উপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বন্ধের দাবীসহ দেশে আইনের সুশাসন নিশ্চিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ।

Development by: webnewsdesign.com