ব্রেকিং

x

শিক্ষকদের আন্দোলন, জাতীয়করণ, গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল নানা সমীকরণের  শেষ ভরসা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শিক্ষকদের আন্দোলন, জাতীয়করণ, গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল নানা সমীকরণের  শেষ ভরসা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শিক্ষকদের আন্দোলন, জাতীয়করণ, গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল নানা সমীকরণের  শেষ ভরসা  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মাদক ও যুবসমাজ নিয়ে লিখার জন্য খাতা কলম তথ্য, কম্পিউটার নিয়ে বসলাম এমন সময় আমার এক শিক্ষক বন্ধুসহ কয়েক জন শিক্ষক  ফোন করে বললেন স্যার জাতীয় প্রেসক্লাবে এমপিও ভুক্ত শিক্ষকগণ জাতীয়করণের জন্য আন্দোলন করছেন, স্কুলে স্কুলে তালা ঝুলছে,  বেশীরভাগ শিক্ষক আন্দোলনে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সব নিয়ে কিছু লিখুন। তাই শিক্ষক বন্ধুদের কথায় লিখার থিম পরিবর্তন করে আল্লাহর নাম নিয়ে  এবিষয়ে লিখা শুরু করলাম। শিক্ষা কি এ বিষয়ে আগে জানা দরকার। সক্রেটিসের ভাষায়, ‘শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ। এরিস্টটলের মতে ”সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হল শিক্ষা’’। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে’।

এ থেকে স্পষ্ট শিক্ষা কোন সাধারন বিষয় নয়। আর একটি আসাধারন বিষয়কে সাধারন, সাবলীল ভাবে যিনি তুলে ধরেন তিনিই শিক্ষক। এই শিক্ষকই যখন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য স্বোচ্চার হন তখন হয়ে যান পাগল। কারন শিক্ষকরাতো শুধু দিয়েই যাবেন। তারা চাইবেন কেন?!

একটি উন্নয়নশীল দেশের উন্নতি নির্ভর করে প্রথমত সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। আমাদের দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষকদের ত্যাগের উপর।   বেসরকারী এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের কথা। ছোটবেলায় শিক্ষকদের দেখেছি তাদের বেতনের জন্য আন্দোলন করতে। এস.এস.সি পরীক্ষা বর্জন করে বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করতে। এখন দেশ এগিয়ে গিয়েছে। সবার মাথাপিছু আয় বেড়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ হবে, কিন্তু বেসরকারী শিক্ষকদের ভাগ্যের অবস্থার পরিবর্তন হয় নি। অষ্টম পে-স্কেলে শিক্ষদের বেতন বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। তবুও কেন আন্দোলন? হতাশার শুরু ঐখান থেকেই। অষ্টম পে-স্কেলের আওতায় শুরু হলো বৈশাখী ভাতা। পহেলা বৈশাখের বাজারে সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে ঝোলানো রূপালি ইলিশের ঝলকানিতে শিক্ষকরা চোখে ঝাপসা দেখছেন প্রতিবছর। বৈষম্যের বেড়াজালে শুধু একপক্ষকে বৈশাখী ভাতা প্রদান করে বেসরকারি শিক্ষকদের ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন! আর কি চাই তাদের?

দেশে ২০ হাজার ৯৬০টি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিপরীতে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৮৪টি। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি। শিক্ষক রয়েছেন সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ। বেসরকারী শিক্ষকেরা যে পরিমাণ বেতন–ভাতা পেয়ে থাকেন, তা দিয়ে পরিবার চালানো বেশ কষ্টসাধ্য—মাধ্যমিক শিক্ষকদের এই আহাজারি দীর্ঘদিনের। এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। একই কারিকুলামের অধীনে থেকেও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য রয়েছে পহাড়সম।এসব বৈষম্যের মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে এ শিক্ষক সমাজ। শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন, ক্লাস বর্জন, আমরণ অন্বেষণ ইত্যাদি। প্রেস ক্লাবের সামনে পড়ে থাকছে পলিথিনে মোড়ানো বিবেকের লাশ। কেউ দেখার নেই, কেউ শোনারও নেই। বুদ্ধিজীবী সুশীল সমাজ বুদ্ধি বিক্রি করেন টেলিভিশনের টকশোতে। শিক্ষকদের নিয়ে ভাববার সময় কোথায়?!

শুরু হয়েছে জাতীয়করণ আন্দোলন। চলবে  আমরণ অন্বেষণ। জাতীয়করণ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় একটি স্কুল ও কলেজ জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরকারি স্কুলের মত বেতন ভাতা সুযোগ সুবিধাও পাচ্ছেন।  কিন্তু অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ায় বেড়েছে দ্বিমত, সংঘাত, আন্দোলন, হাইকোর্টে রীট এবং প্রাণ গিয়েছে শিক্ষকের। এভাবে বিক্ষিপ্ত জাতীয়করণ শিক্ষাক্ষেত্রে আসলেই কি সুফল বয়ে আনতে পারে?! দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে, স্মার্ট বাংলাদেশ করতে হলে  শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতেই হবে। পত্র পত্রিকায়  রিপোর্টের ভিত্তিতে কিছুদিন পূর্বে আমরণ অন্বেষন থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন একশ পঞ্চাশ জন শিক্ষক কিন্তু তাতে কি হয়েছে? মারা মারা গেছেন কয়েকজন শিক্ষক, তারপরেও টনক নড়েনি সরকার বাহদুরের।</p>
<p dir=”ltr”>

আজ শনিবার আন্দোলন গড়াচ্ছে ১২ দিনে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকায় এসে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য কমানো নিয়ে শিক্ষকদের দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু এই বৈষম্য কমানোর বিষয় সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোন সাড়া পাননি শিক্ষকরা। এ কারণে ধীরে ধীরে শিক্ষকদের ক্ষোভ বেড়েছে । শিক্ষামন্ত্রী  ডা. দীপু মনির সাথে মিটিং করে শিক্ষদের ক্ষোভ আরো বৃদ্ধি পয়েছে, যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মত।
নোয়াখালীর চাটখিল থেকে আন্দোলনে আসা শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আমাদের বৈঠক যথোপযুক্ত হয়নি। সেদিন বৈঠকে যাওয়ার পর আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি এখন একটাই, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ এবং তার আশ্বাস ব্যতীত আমরা ঘরে ফিরব না।

এ কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা নয়, আরো বড় দাবি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ চান তারা। তাদের দাবি, তাদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করতে হবে।
আন্দোলনত শিক্ষকরা বলেন, দাবি আদায় না করে স্কুলে ফিরে যাবো না। তারা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করে এসেছেন। ফলে শহর, মফস্বল ও গ্রামের বেশীরভাগ  মাধ্যমিক  স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলছে। এই কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। এমনই প্রেক্ষাপটে গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষক নেতারা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী তাদের জানিয়ে দিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তবে জাতীয়করণের বিষয়টি যাচাইবাছাইয়ের জন্য দুটি কমিটি গঠনের কথাও জানান।

গত বুধবার জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী।‌ বৈঠক‌ শেষে তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে দুটি কমিটি গঠন, মাধ্যমিকপর্যায়ের স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটি বাতিল করে শীতের ছুটির সঙ্গে সমন্বয়করণ, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদান ও মূল্যায়ন শেষ করারও নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে। কিন্তু মন্ত্রীর বক্তব্যে আশ্বস্ত হতে পারেননি শিক্ষক নেতারা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওসার আহমেদ বৈঠক শেষে এসে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে আন্দোলরত শিক্ষকদের জানিয়েছেন, ‘তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পাঁচ মিনিট সাক্ষাতের সুযোগ চান। এই সুযোগ না দেওয়া হলে তারা রাজপথ ছাড়বেন না।’ সে আশায় আন্দোলন অব্যাহতভাবে চলছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষকের আহত হয়ে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকারটি আজ পণ্যে পরিণত হতে চলেছে। সরকারীকরণের বর্তমান প্রক্রিয়া চলতে থাকলে শিক্ষা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাবে। বিরাজমান শিক্ষার মানের বৈষম্য আরও বেড়ে যাবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে গোটা জাতি।  এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ।  নিশ্চিত হবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বন্টন। আর জনগনই তো রাষ্ট্রের মালিক!

আপনাদের শিক্ষা, জ্ঞান যদি কোন শিক্ষক দিয়ে থাকেন তবে দয়া করে সেই মহান শিক্ষকের উছিলায়, বেসরকারি শিক্ষকদের কথা ভাবুন। শিক্ষকদের  গাছে তুলে দিয়ে মই টান দিবেন না। মই না থাকলে দেশের নব্বই শতাংশ শিক্ষার্থীও গাছে উঠতে পারবে না। এই শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলে একটি সুন্দর জাতী গঠন করে দেশকে সমৃদ্ধ করায় আমরাও অঙ্গিকারবদ্ধ। আমরা আবেগ দিয়ে বিবেক বিসর্জন দিতে চাই না।

শিক্ষকরা যদি জাতি গড়ার কারিগর হয়ে থাকেন তবে এই আন্দোলন জাতির বিবেকের আন্দোলন। মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরিকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি৷

বর্তমান  সরকার ২৬ হাজার ১শ ৯৩ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি সরকারীকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১, বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭ ভাগে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে সারা দেশের লাখ লাখ  শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে লাগাতার ধর্মঘট চালিয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চলছে আমরণ অনশন কর্মসূচি এবং আন্দোলনকারীরা বলেছেন, দাবি-দাওয়া আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অব্যাহত তালা ঝুলতে  থাকবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চলবে। বেসরকারি যেসব শিক্ষক-কর্মচারী এখনও জাতীয়করণের আওতায় আসেননি, তাদের আর্থিক দুর্দশার বিষয়টি না বোঝার কথা নয়। কিন্তু জাতীয়করণের দাবি পূরণের জন্য আন্দোলন একটি সময় উপযোগি পদক্ষেপ।

বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের  দুঃখ, কান্নার  কথা, দ্রব্যমূল্যের বাজারে উদ্ধোগতির কথা ভেবে মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এব্যপারে একটি গ্রহনযোগ্য পদক্ষেপ নিতে পারেন, কেন আপনি শিক্ষকদের শেষ আশ্রয়স্থল।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক সমাজের  আবেদন, আন্দোলনকারীদের সমস্যাটি মানবিক কারণে সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করুন। সাড়ে পাঁচ লাখ আন্দোলনকারীর জীবন স্বচ্ছন্দময় হয়ে উঠতে পারে। তারা তো ছাত্রছাত্রী পড়াচ্ছেনই। তাদের শ্রম ও মেধার মূল্যায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

শিক্ষাভবনের প্রভাবশালি কর্মকর্তাগণ কিছু মনগড়া সৃষ্টি করে রেখেছেন, সকল শিক্ষকগণ ১৬ বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর স্কেল পেলেও প্রধান শিক্ষক,  সহকারি প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার, সহঃ সুপারগণ দ্বিতীয় উচ্চতর স্কেল পাচ্ছেন না। একদেশে দুই নিয়ম এ যেন  একচোখে তেল অন্য চোখে লবন দেয়ারমত অবস্থা। শিক্ষা মন্ত্রী,  প্রধান মন্ত্রী পারেন এ বৈষম্য দূর করতে প্রধান শিক্ষক, সহঃ প্রধানদের মাঝে হতাশা কাটিয়ে সুদিন ফিরিয়ে আন্তে। শিক্ষকগণ  নানামূখি সমস্যায় মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তাদের নুন আন্তে পান্তা ফুরায় অবস্থা। বেসরকারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবী,  বেসরকারী শিক্ষকদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ ঘোষনা  হউক, এ কাজ টি করতে পারেন প্রধান মন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর সুযৌগ্য কন্যা  শেখ হাসিনা।

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড হলে শিক্ষকরা শিক্ষার মেরুদন্ড। কিন্তু আজ শিক্ষক সমাজ অবহেলিত ও বিভিন্নভাবে হয়রানি-নির্যাতনের শিকার। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক স্বচ্ছলতা, সামাজিক মর্যাদা নেই বলে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চান না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষকরা রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়ে চাকরি হারিয়ে পথে পথে ঘুরছেন। শিক্ষকদের চাকরির নিরাপত্তা নেই বলেই আজ শিক্ষার বেহাল অবস্থা।

শিক্ষাক্ষেত্রে আজ পর্বতসম বৈষম্য বিদ্যমান। সরকারি বেসরকারি স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষক-কর্মচারীদের সমযোগ্যতা ও সমঅভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি স্কুল ও বেসকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেলে পার্থক্য রয়েছে। সরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের যে সিলেবাস বেসরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের ও একই সিলেবাসে পড়ানো হয়। কিন্তু তাদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়।  বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ২৫% ও কর্মচারীদের ৫০% উৎসব ভাতা দেওয়া হয়। বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের সাথে ইহা বিমাতাসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সর্বপ্রথম বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ১/১/১৯৮০ থেকে জাতীয় বেতনর স্কেলের অন্তুর্ভূক্ত করেন এবং ৫০% বেতন স্কেল প্রদান করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ ১০%+১০% = ২০% প্রদান করেন। ১৯৯৪ সালের শিক্ষক আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০%, ২০০০ সনে আন্দোলনে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০% এবং সর্বশেষ ২০০৬ সনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০% বেতন প্রদান করে ১০০% এ উন্নীত করেন। এখন চাকুরী জাতীয়করণের কোন বিকল্প নেই। চাকুরী জাতীয়করণের জন্য সরকারের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন নেই। বর্তমানে শিক্ষক কর্মচারীরা সরকার থেকে ১০০% বেতন পান। এজন্য সরকারকে প্রদান করতে হয় প্রতি মাসে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা মাত্র। ১২ মাসে সরকারকে দিতে হয় ১২০০০ কোটি টাকা মাত্র।

প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলে সরকারকে প্রদান করতে হবে মোট প্রায় ১৭৮২০ কোটি টাকা প্রায়। বর্তমান সরকার বেতন বাবদ প্রদান করছে ১২০০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত প্রদান করতে হবে প্রায় ৫৮২০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের আয় হবে প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
শিক্ষকগণ হচ্ছেন জাতির বিবেক ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের ধারক ও বাহক। শিক্ষার সংস্কার, সম্প্রসারণ ও মান উন্নয়নে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিবেন বলে শিক্ষক সমাজ প্রত্যাশা করে।

মানসম্মত শিক্ষা ও মেধাবী জাতি গঠনে জাতীয়করণের বিকল্প নেই। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের তুলনায় শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে আমাদের অবস্থান তলানীতে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা হাস্যরসের খোরাক হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।

সর্বোচ্চ পর্যায়ে শিক্ষাখাতকে প্রাধান্য দেয়া, মাধ্যমিক শিক্ষাকে গতিশীল করা, মাধ্যমিক পর্যায়ে মেধাবিকাশে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা চালুকরণ জাতীয়করণ ছাড়া সম্ভব নয়।

বর্তমানে শিক্ষকতার পেশাটাকে মুখে মুখে সম্মানজনক পেশা বলা হলেও গ্রেড অনুপাতে বেতন, কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডের আচরণ, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা আর সিঁকি উৎসবভাতা কিন্তু অন্যটা প্রমাণ করে। আমরা যে শতভাগ অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার তা কিন্তু এই বেতন ও সামান্য সুবিধা প্রমাণ করে। অন্যান্য চাকরি বঞ্চিত হলে একান্ত বাধ্য হয়ে তারা এ পেশায় এলেও বেতন, ভাতা ও মূর্খ পরিচালনা কমিটি দেখে পড়ানোর মানসিকতা পরিবর্তন করে তারা এটাকে চাকরি হিসেবে বেছে নেয় সেবা হিসেবে নয়। এটা জাতির জন্য অশনিসংকেত।

অভাবগ্রস্ত শিক্ষকরা মানসিক ভাবেও বিপদগ্রস্ত। অভাব যখন চারদিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকে তখন নিদারুণ কষ্টের ভান্ডার থেকে সৃজনশীল কিছু পাওয়ার চিন্তাই বৃথা। তাই অতিশীঘ্র জাতীয়করণ না হলে এ শিক্ষা ব্যবস্থায় অরাজকতা বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষায় প্রতিযোগিতা আরও কমবে এবং এসব সেক্টরে প্রচন্ড অসন্তুষ্টি দেখা দেবে। আমাদের দেশের চেয়েও অনুন্নত বেশ কয়েকটি এশিয়ান রাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে সর্বনিম্ন জিডিপি ৩.৫০ বা ৪ শতাংশ সেখানে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হয়েও আমাদের জিডিপি ২.০৯ শতাংশ। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। দেশের মাধ্যমিক, উচ্চ শিক্ষাসহ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাণবন্ত করতে, আশানুরূপ ফলাফল পেতে জাতীয়করণ একান্ত প্রয়োজন। বিশাল বাজেটের আংশিক এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের আয় জমা নিয়ে জাতীয়করণ করলে শিক্ষক/শিক্ষার্থী/ অভিভাবকগন যেমন উপকৃত হবে তেমনি আমাদের শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান ও কৌশল অবলম্বন করে বাস্তবিক প্রয়োগ সম্ভব হবে। বেসরকারি শিক্ষকদের হাহাকার নিরসনে এখনই জাতীয়করণের মোক্ষম সুযোগ।

বেসকারী শিক্ষকদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সরকারের শেষ  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বেসরকারী  শিক্ষক সমাজের প্রাণের দাবী একটায় সেটা হলো সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষকদের পাহাড়সম বৈষম্য দূর করতে সকল  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে জাতীয়করণ করার । এ ঘোষনার অপেক্ষায় শিক্ষক সমাজ তীর্থের কাকের ন্যয় চেয়ে আছেন।

লেখক: মো.হায়দার আলী
সিনিয়র সাংবাদিক,কলামিষ্ট,
প্রধান শিক্ষক,মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
সহঃ সাধারন সম্পদক
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা,রাজশাহী জেলা শাখা।

Development by: webnewsdesign.com