ব্রেকিং

x

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন : চলছে ভোট গণনার প্রস্তুতি

শনিবার, ০৯ মার্চ ২০২৪ | 10 বার

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন : চলছে ভোট গণনার প্রস্তুতি

সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও ভোট গণনা নিয়ে হট্টগোল-মারামারির ঘটনা ঘটে। ফলে ভোট গণনা স্থগিত হয়ে যায়। শুক্রবার (৮ মার্চ) ভোট গণনা হয়নি। ব্যালট সিলগালা অবস্থায় পুলিশ হেফাজতে ছিল।

আজ শনিবার দুপুরে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবুল খায়ের জানিয়েছেন, বেলা ১টার পর ভোট গণনায় বসতে যাচ্ছেন তারা। বেলা পৌনে ১টার দিকে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর ভোট গণনা শুরু হবে।’

এর আগে নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়কের পক্ষ থেকে এসএমএস করে ভোট গণনার কথা জানানো হয় নির্বাচনের প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ আইনজীবীদের। ওই এসএমএস-এ বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি হলরুমে বেলা ১টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ বিকেলে ৫টা পর্যন্ত) কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে দুই দিনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। নির্বিঘ্ন ভোট নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন প্রার্থীরাও। ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন পরিচালনা উপ কমিটি জানায়, এবারের নির্বাচনে ৭ হাজার ৮৮৮টি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। রাতেই ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণার কথা ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রদেয় ভোট যাচাই-বাছাই করতেই অনেক রাত হয়ে যায়। তখন ভোট গণনা নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। কিন্তু রাতে প্রার্থীদের অ্যাজেন্ট না থাকার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের সম্পাদক পদপ্রার্থী শাহ মঞ্জুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী শুক্রবার দিনে ভোট গণনার দাবি তোলেন। আর সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী ও বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ কয়েকজন রাতেই ভোট গণনার পক্ষে অবস্থান নেন।

এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর‌্যায়ে শুক্রবার ভোরে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারির ঘটনা ঘটে।

মারামারিতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস আর সিদ্দিকী সাইফসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে ভোট গণনা নিয়ে হট্টগোলের বেশ কয়েকটি ভিডিও গতকাল শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওর একটিতে সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলাতানা যুথীকে বেশ আক্রমণাত্বক হতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচন পরিচালনা উপ কমিটির আহ্বায়ক আবুল খায়ের সম্পাদক পদে নাহিদ সুলতানা যুথীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে।

ভোট গণনা করেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে

শনিবার নির্বাচন পরিচালনা উপ কমিটির আহ্বায়ক আবুল খায়ের এ ঘোষণার বিষয়েও একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্যাডে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভোট গণনার পূর্বেই দুঃখজনকভাবে বহিরাগত মাস্তান শ্রেণি আমার উপর চাপ সৃষ্টি করে তাহা লিখিত দিতে বাধ্য করা হয়। যদিও ইহা অর্থহীন ঘোষণা, তবুও কূটতর্ক নিরসনের স্বার্থে সংশ্রিস্ট সকলকে তাহা ইগনোর করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ভোট গণনা করেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে।’

মামলা,গ্রেপ্তার|

এদিকে মারামারিতে আহত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস আর সিদ্দিকী সাইফ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন। শুক্রবার (৮ মার্চ) রাতে করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী নাহিদ সুলতানা যুথী ও বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ২০ জন আইনজীবীকে আসামি করা হয়েছে। একটি দৈনিকের অনলাইন খবরে বলা হয়েছে, মামলার পরপরই শুক্রবার রাতে এক আইনজীবীকে গ্রেপ্তার এবং চার আইনজীবীকে আটক করা হয়।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি এক নোটিশে সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের (২০২৪-২৫) তারিখ ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুসারে, গত ৬ ও ৭ মার্চ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়।

অরাজনৈতিক পেশাজীবী সংগঠন হলেও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা বরাবরই প্যানেলভিত্তিক পরিচিতি পেয়েছেন। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের মনোনীত প্রার্থীরা ‘সাদা প্যানেল’র প্রার্থী হিসেবে হিসেবে পরিচিত। আর বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের সমর্থিত প্রার্থীরা ‘নীল প্যানেল’র প্রার্থী হিসেবে পরিচিত।

প্রতি বছর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ১৪টি পদে নির্বাচন করে থাকে। এর মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ দাপ্তরিক পদ ৭টি, বাকি ৭টি সদস্য পদ। সাদা-নীল দুই প্যানেলই বরাবরের মত ১৪টি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে। এ দুই প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে দুইজন, সম্পাদক পদে দুইজন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে একজন নির্বাচন করছেন। অর্থাৎ এবারের নির্বাচনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী হয়েছেন।

গত বছর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে সাদা-নীল প্যানেলের প্রার্থী-সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি-ভাংচুরের মধ্যে পুলিশি হামলার ঘটনাও ঘটে। পুলিশের হামলায় আইনজীবীদের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট বিটের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন। আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জন না করলেও নীল প্যানেলের প্রার্থীরা ভোট থেকে সরে দাঁড়ায়। গত বছর ১৫-১৬ মার্চ ভোট হয়।

দ্বিতীয় দিনের একপেশে ভোটের পরদিন অর্থাৎ ১৭ মার্চ ফল প্রকাশ করে নির্বাচন পরিচালনা উপ কমিটি। নিরঙ্কুশ জয় পায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সাদা প্যানেল।

Development by: webnewsdesign.com