প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, মাস্ক পরে থাকবেন-প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২২ | 42 বার

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, মাস্ক পরে থাকবেন-প্রধানমন্ত্রী
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, মাস্ক পরে থাকবেন-প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়ছে। সবাইকে অনুরোধ করছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, মাস্ক পরে থাকবেন। দ্রুত এই করোনাভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে, সে জন্য কিছু বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। এসব বিধিনিষেধ মেনে চলবেন।

গতকাল সকালে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন। প্রকল্পগুলো হচ্ছে, শাহজালাল বিমানবন্দর সড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পথচারী আন্ডারপাস, সিলেট শহর বাইপাস-গ্যারিসন লিংক চার লেন মহাসড়ক, ‘বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুমধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক এবং রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরে চেংগী নদীর ওপর ৫০০ মিটার দীর্ঘ সেতু। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ এবং ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এ নির্মাণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিল। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণভবন প্রান্তে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রকল্প প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ মেজর জেনারেল ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান বক্তৃতা করেন।

dhakarkagoj.com

গণভবন প্রান্তে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরেন।

সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না:

সড়ক দুর্ঘটনায় কাউকে আইন হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনির মতো ঘটনা না ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। অনেক সময় গাড়ির ধাক্কা লেগে অনেকে পড়ে যায়, কিন্তু গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলবে-এই ভয়ে চালক না দাঁড়িয়ে দ্রুত গাড়ি টেনে চলে যায়। গাড়িটা দাঁড়ালে লোকটি বেঁচে যেত। কিন্তু ড্রাইভার ভয়ের কারণে টেনে চলে গেলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি মারা যায়। কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা প্রবণতা দেখা যায়, কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে ধরে পেটানো হয়। অনেক সময় গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়। দুর্ঘটনাটা কেন ঘটল, কার জন্য ঘটল, বিবেচনা করতে হবে। গণপিটুনি, গাড়ি ভাঙচুর করবেন না। সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। মোবাইল ফোন কানে নিয়ে রাস্তা, রেললাইন পার না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, যেখানে-সেখানে ফোন কানে নিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হবেন না। প্রায়ই দেখা যায়, ছাত্ররা মোবাইল ফোন কানে দিয়ে চলছে, রাস্তার মধ্যে এসে পড়ছে। দ্রুতবেগে চলতে থাকা গাড়ি অনেক সময় ব্রেক করে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় না।

হেলপার দিয়ে গাড়ি চালাবেন না :

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চালকদেরও আমি বলব, গাড়ি চালাতে চালাতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বলতে হবে। বিরতি দিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন। তা না করে হেলপার দিয়ে গাড়ি চালাবেন না। তার তো কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমরা হাইওয়েতে চালকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন,?চালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, লাইসেন্স যাতে যথাযথভাবে পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই যাতে সবার মধ্যে ট্রাফিক আইনের শিক্ষা থাকে সে উদ্যোগ নিতে হবে। আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলব উদ্যোগ নিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৯ জুলাই, ২০১৯-এ এয়ারপোর্ট মহাসড়কে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে যায় শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজিব ও দিয়া খানম মিমের প্রাণ। আমি রাজিব ও মিমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। এই দুর্ঘটনার পর পরই আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম নিরাপদ পথচারী পারাপারের জন্য ওই স্থানে একটি আন্ডারপাস নির্মাণের। আজ এটির উদ্বোধন হলো। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও পথচারী এই ব্যস্ততম সড়কটি ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। তাদের জন্য নান্দনিক একটি নিরাপদ ও আধুনিক পথচারী আন্ডারপাস স্বল্প সময়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও বয়স্ক মানুষের বিবেচনায় লিফট, র‌্যাম্প ও চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই আন্ডারপাস নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থী ও পথচারীর সড়ক পারাপার নিরাপদ হবে, অন্যদিকে এয়ারপোর্ট মহাসড়কের এই অংশ যানজটমুক্ত হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সিলেট গ্যারিসন লিংক রোড প্রকল্পটি নির্মাণের ফলে সিলেট বাইপাস থেকে কানাইঘাট এবং শাহপরান সেতুঘাট থেকে সিলেট শহর বাইপাস পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত দ্রুত আর সহজতর হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবগঠিত ১৭ পদাতিক ডিভিশনে একটি ‘এডুকেশন ভিলেজ’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে একটি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সমাজের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ‘ঢাকা প্রয়াস’ স্কুলের আদলে ‘সিলেট প্রয়াস’ স্কুল নির্মাণ করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে, নবনির্মিত এই সড়কটি স্থানীয় স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজতর ও নিরাপদ করবে। বালুখালী (কক্সবাজার)-ঘুমধুম (বান্দরবান) সীমান্ত সংযোগ সড়ক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা কক্সবাজারের বালুখালী থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এশিয়ান হাইওয়ের একটি অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বিধায় আন্তর্জাতিক এ সড়কটি অন্যান্য সড়ক ও মহাসড়ক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ সড়কটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে। সরকারপ্রধান বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ৫০০ মিটার দীর্ঘ নানিয়ারচর সেতুটি নির্মাণের মাধ্যমে রাঙামাটি জেলা সদরের সঙ্গে নানিয়ারচর উপজেলার নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হলো। এটি ভবিষ্যতে লংগদু উপজেলা হয়ে মারিষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করবে। এর ফলে পার্বত্য জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। এ সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পথেও একধাপ এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল হবে আমাদের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর। আর কয়েক মাস পর জুন মাসেই আমরা উদ্বোধন করতে যাচ্ছি বহুল আকাক্সিক্ষত পদ্মা সেতু। অনেক ষড়যন্ত্রের জাল আর প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে যাচ্ছি। এ বছরের শেষ নাগাদ আমরা উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশে মেট্রোরেল চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। মেট্রোরেল রাজধানী ঢাকার পরিবহন খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। আগামী অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে চালু হবে দেশের প্রথম টানেল।

Development by: webnewsdesign.com