‘হঠাৎ লঞ্চের সব লাইট বন্ধ হয়ে গেল, প্রচণ্ড তাপে পায়ের তলা পুড়ে যাচ্ছিল’

শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১ | 51 বার

‘হঠাৎ লঞ্চের সব লাইট বন্ধ হয়ে গেল, প্রচণ্ড তাপে পায়ের তলা পুড়ে যাচ্ছিল’
পুরে যাওয়া লঞ্চ, ঘাটে রাখা হয় ।

অভিযান-১০ এর অগ্নিকাণ্ডে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছেন বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হুদার মা নাসরিন বেগম (৬৫)। তিনি কুমিল্লায় মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। চাঁদপুর থেকে তিনি লঞ্চে ওঠেন। আগে থেকেই ছেলে তার জন্য ৩১৭ নম্বর কেবিনটি বুকিং করেছিলেন।

তাকে লঞ্চের কেবিনে পৌঁছে দিতে আসেন নাতি মেহেদি হাসান। লঞ্চ দ্রুত চাঁদপুর ঘাট ছেড়ে দেওয়ায় মেহেদিও রয়ে যায় লঞ্চে। রাত ৩টার দিকে নাসরিন বেগম লঞ্চে পোড়া গন্ধ টের পান। দুজনে কেবিন থেকে বের হয়ে দেখেন আগুনের লেলিহান শিখা। নাতিকে নিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন তিনি। ইতোমধ্যে লঞ্চের সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে লঞ্চটির সমস্ত বডি গরম হয়ে যায়।

dhakarkagoj.com

নাতি মেহেদি লঞ্চের পাশে গেলে একজন তার গায়ের উপর পড়ে। তার সঙ্গে সেও তিনতলা থেকে ছিটকে নিচে পানিতে পড়ে যায়। নাতিকে হারিয়ে নাসরিন আক্তার কী করবেন ভেবে পান না। এদিকে প্রচণ্ড তাপে পায়ের তলা পুড়ে যাচ্ছিল। তিনি উপায় না পেয়ে তিনতলা থেকে জীবনের মায়া ত্যাগ করে নিচে ঝাঁপ দেন। এরপর কীভাবে তীরে উঠেছেন সে ঘটনা তিনি মনে করতে পারছেন না। তিনিও বর্তমানে বামনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আগুনের উৎপত্তিস্থল স্পষ্ট দেখেছেন বামনা উপজেলার ব্যবসায়ী গোবিন্দ সাহা। তিনি তখন লঞ্চটির নিচতলায় সামনের দিকে শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ইঞ্জিন রুমে আগুন দেখতে পান। তিনি তাৎক্ষণিক দৌড়ে ৩ তলায় সুকানির কাছে গিয়ে লঞ্চের আগুনের বিষয়টি বলেন। তিনি তাকে লঞ্চটি তীরে ভিড়াতেও অনুরোধ করেন। পরে তিনি আবার নিচে চলে আসেন।

এমন সময় লঞ্চটির প্রায় অর্ধেক পরিমাণ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। লঞ্চটির ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ায় তীরে ভিড়লেও ভাটায় লঞ্চটিকে মাঝ নদীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন কোনোমতে ঝাঁপ দিয়ে নদীতে পড়েন। পরে দেখতে পান লঞ্চের শেষকৃত্য।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোররাতে বরগুনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী পার হয়ে বিষখালী নদীতে আসলে রাত ৩টার দিকে ইঞ্চিন রুমে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত লঞ্চটি পুড়ে ভস্মীভূত হয়। লঞ্চটিতে প্রায় ৬ শতাধিক যাত্রী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এখন পর্যন্ত লঞ্চটি থেকে ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন। ৩ শতাধিক যাত্রী আহত হয়ে ঝালকাঠি ও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

Development by: webnewsdesign.com