রবিবার ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আমড়া বিক্রিতেই চলে শিশু মোসলেমের সংসার, দায়িত্ব নিয়েছেন অসুস্থ দাদীর

  |   শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   298 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আমড়া বিক্রিতেই চলে শিশু মোসলেমের সংসার, দায়িত্ব নিয়েছেন অসুস্থ দাদীর

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে শিশু মোসলেম (০৯) । যার হাতে থাকার কথা বই-খাতা-কলম । সকালে যাবার কথা স্কুলে । স্কুলের যাওয়ার বদলে সকাল থেকে ঘুরে ঘুরে আমড়া বিক্রি করে বেড়ায়, পরিবারের খরচ চালাতে প্রতিদিন এমনি সংগ্রাম চালাচ্ছে শিশু মোসলেম ।

প্রতিদিন সকালে বের হয়ে বিকেলে বাড়ি খরচ নিয়ে ঘরে ফেরা হয় তার। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুইচ গেট এলাকার একটি বাড়িতে দাদিকে নিয়ে থাকে মোসলেম। শুক্রবার সকালে বীরগঞ্জ পৌর শহরের মহাসড়ক দিয়ে চলা দূরপাল্লার বাস যখন থেমে থাকে যানজটে আর লোক সমাগমের চাপে থেমে যায় মানুষের চলাচল সেসময় বাসে-বাসে, আর পথে পথে আমড়া বিক্রির দৌড় থামেনা মোসলেমের ।

যানযটের সময়ে একপলক কথা হয় শিশু মোসলেমের সাথে, সে জানায়, তার পিতা আলমগীর হোসেন আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করছেন। তাদের খোঁজ-খবর নেন না। তার মাও বিয়ে করে সংসার নিয়ে অন্যত্র থাকে। ছোট একটি বোনকে নিয়ে । বর্তমানে অসুস্থ দাদির সাথে থাকেন মোসলেম, আর দেখাশুনাও করতে হচ্ছে মোসলেম কেই । জীবিকা নির্বাহে মহাজনের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি আমড়া একটি পাত্রে পদ্মফুলের পাপড়ির মতো সুন্দর করে কেটে এনে বিক্রি করছে। এতে তার তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা লাভ হয়। এ টাকায় তার দাদির ওষুধ ও তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা হচ্ছে কোনভাবে। লেখাপড়া না করতে পারায় তার মনে বিরাট আক্ষেপ।

শিশু মোসলেম জানায়, উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভোগডোমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো সে। সেও তিন বছর ধরে বন্ধ হয়ে গেছে। লেখাপড়া করতে পারলে সে চাকরি করে সম্মান নিয়ে জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু তার এ পথ বন্ধ। কারণ ভোরেই তাকে ঘর থেকে বের হয়ে ঘুরে ঘুরে আমড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

শিশু মোসলেম পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে আমড়া বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছে এই সংবাদটি বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জেনেছেন ।  ইউএনও তানভীর আহমেদ আন্তরিক ভাবে শিশু মোসলেম এর কথা শুনেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ প্রদান করেন এবং শিশুটির পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে শিশু মোসলেমের লেখাপড়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটির বাবা নিজেও আমড়া বিক্রি করতেন। তার বাবা-মায়ের দুই বছর পূর্বে বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে অভাবের সংসারে শিশু বয়সেই স্কুলে যাবার বদলে পথে পথে আমড়া বিক্রি করতে হচ্ছে শিশু মোসলেমকে।

মোসলেম জানায়, আষাঢ়ের শেষ থেকে আশ্বিন মাসের শেষ পর্যন্ত আমড়ার ভরা মৌসুম। কখনো কার্তিকেও পাওয়া যায়। তাই এই সময় পর্যন্ত সে আমড়া বিক্রি করে। এর আগে তার বাবা- মা বিভিন্ন স্থানে কাজ করে পরিবার চালাতেন। বর্তমানে বাধ্য হয়ে তাকে এ পেশায় নামতে হয়েছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোঃ মাসুদ রানা হানিফ

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

৮৯/৭ আর কে মিশন রোড, গোপীবাগ, ঢাকা-১২০৩।

মোবাইল : ০১৯২০-০০৮২৩৪, ০১৯৭০০৯০০০৯

ই-মেইল: dhakarkagoj1@gmail.com