
| সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 48 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রংপুরে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের খবরে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার ও সহপাঠীরা আনন্দ মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে এনে রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের সময় আহত ও নিহতদের পরিবারের মামলার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানান তারা।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকালে রায় ঘোষণার পর শহীদ আবু সাঈদের পরিবার তাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ছেলেকে আর পাওয়া যাবে না। কিন্তু হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে স্বস্তি পেয়েছেন। বাবা মকবুল হোসেন বলেন, রায়ে তার কষ্ট কিছুটা হলেও প্রশমিত হলো। তিনি দ্রুত শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান, যাতে জীবদ্দশায় ছেলের খুনির ফাঁসি দেখে যেতে পারেন।
আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় কার্যকর হলে তা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অগণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করে স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে। তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও মুখ্য ভূমিকা পালন করা যোদ্ধাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এদিকে শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে। বিকালে শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা ক্যাম্পাস থেকে একটি আনন্দ মিছিল নিয়ে শহীদ আবু সাঈদ চত্ত্বর প্রদক্ষিণ করেন। তারা এই আদেশকে গণঅভ্যুত্থানের পর আরেকটি বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শওকাত আলী বলেন, আবু সাঈদকে কেন্দ্র করে এই মামলার রায়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশের মানুষও খুশি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল-২ এ থাকা আরেকটি মামলার রায়ও দ্রুত পাওয়া যাবে।
প্রেসক্লাব এলাকায় পথচারী ও অটোরিকশা চালকদের মিষ্টি বিতরণ করেন জুলাই যোদ্ধা সীমান্ত হোসেন। তিনি বলেন, এই রায় শহীদের আত্মাকে শান্তি দিয়েছে। এখন শেখ হাসিনাকে দ্রুত দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা উচিত। পরে টাউন হল এলাকা থেকে জাতীয় ছাত্র শক্তি মহানগরের উদ্যোগে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা বের হয়।



