| মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 38 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঢাকা–৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন,যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, বাংলাদেশের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায় এবং জাতীয় সংগীত, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস মানতে চায় না তাদের শুধু রাজনীতিতে নয়,বাংলাদেশের নাগরিকত্বেই থাকার নৈতিক অধিকার নেই ।
মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি রাজধানীর গোপীবাগ এলাকাবাসীর উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন ।
ইশরাক হোসেন বলেন,শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে সব রাজনৈতিক দলকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছিলেন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য । কিন্তু সেই উদারতার সুযোগ নিয়ে আজ একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলতে এবং দেশের ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে ।

তিনি বলেন,২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা যখন আবার গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছি,তখন কেউ কেউ সেই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজেদের দখলে নিয়ে‘সেকেন্ড রিপাবলিক’গঠনের কথা বলছে । কিন্তু বাংলাদেশ যদি না থাকতো,তাহলে এই গণঅভ্যুত্থান কোথা থেকে আসতো ?
মুক্তিযুদ্ধের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন,যারা এই দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন—বীর মুক্তিযোদ্ধারা—তাদের অবদান খাটো করার কোনো সুযোগ নেই । মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করলে দেশের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে ।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন,দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা । তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন,আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবশ্যই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে । কেউ যদি নির্বাচন বানচালের জন্য ৫০ জন প্রার্থীকে হত্যা করে তবুও ২০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ থামিয়ে রাখা যাবে না ।
তিনি আরও বলেন,মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্রের জন্য হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও হয়েছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য । আর গণতন্ত্রের প্রথম শর্ত হলো একটি সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা ।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান,ধনী-গরিব,শ্রমিক-চিকিৎসক সবার দেশ । আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা মানুষ, এরপর রাজনীতি ।
ভোটারদের উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন,আপনারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং আপনাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এমন একটি সরকার গঠন করবেন,যাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায় ।
নিজেকে এলাকার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি তিনি কোনো পদ বা সুবিধার জন্য করেন না,বরং জনগণের ভোটের অধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্যই তার এই সংগ্রাম ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ারী থানা বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক (সদস্য সচিব পদ মর্যাদা) সাবেক কাউন্সিলর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক মুক্তা,যুগ্ন আহবায়ক ওয়ারী থানা বিএনপি ।
আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর তারিক হোসেন,সাবেক সভাপতি ৩৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি,গোলাম মোহাম্মাদ বুলবুল,সভাপতি ৩৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি,জাফর ইকবাল লিটন,সাধারণ সম্পাদক,৩৯ নং ওয়ার্ড বিএনপি।
আব্দুল্লাহ ফেরদৌস মান্নান,সভাপতি,বিসমিল্লাহ জামে মসজিদ।
কাজল ভূঁইয়া,সাধারণ সম্পাদক,বিসমিল্লাহ জামে মসজিদ।
গোলাম মোর্শেদ ভূঁইয়া,সাবেক ভারপ্রাপ্ত ভিসি,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,ফেরদৌস ভূঁইয়া,শিক্ষা ক্যাডার।
আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মাদ জুয়েল,কোষাধ্যক্ষ,বিসমিল্লাহ জামে মসজিদ, তপন চৌধুরী,নির্বাহী আচার্য্য ব্রাহ্ম সংসদ।ডা:মোহাম্মাদ আলী ভূঁইয়া জয়,বাংলাদেশ ন্যাশনাল মেডিক্যাল। মোহম্মাদ রফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল,মাইকেল মধুসূদন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সোয়েব হাসান আহবায়ক ৩৯ নং ওয়ার্ড যুবদল ।



