| বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 95 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

দেশের বনভূমি সংরক্ষণে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জারি করা হলো ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বনভূমির অবৈধ দখল প্রতিরোধ, ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্ষ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৯২৭ সালের বন আইনে সংরক্ষিত ও রক্ষিত বন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়াদি উল্লেখ রয়েছে, কিন্তু সংরক্ষিত ও রক্ষিত এলাকার বাইরে এবং গণপরিসরে যে বৃক্ষ সম্পদ রয়েছে তা সংরক্ষণের এবং বনভূমি সুরক্ষার বিষয়ে কোনো বিধি-বিধান নাই। তাছাড়া, বনভূমির ভিন্নরূপ ব্যবহার বা বনবিরুদ্ধ ব্যবহারের বিষয়েও কোনো বিধি-বিধান নাই।
আজ এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, এ আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক বন কোনো বন বিরুদ্ধ বা বন বহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না, তবে অন্যান্য বনভূমির ক্ষেত্রে শুধু অপরিহার্য জাতীয় প্রয়োজনে এবং অন্য কোনো বিকল্প না থাকলে নিরপেক্ষ পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব নিরূপণ, ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি, বিপদাপন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর ঝুঁকি বিবেচনা করে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার বনভূমির বন বহির্ভূত ব্যবহার (নন ফরেস্ট ইউজ) অনুমোদন করতে পারবে। অনুমোদন ছাড়া বনভূমির বন বহির্ভূত ব্যবহার বা বন বিরুদ্ধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এ আইনে দুইটি তালিকা থাকবে, যার একটিতে কর্তন নিষিদ্ধ গাছের প্রজাতির বৃক্ষের নাম উল্লেখ থাকবে; যা কোনোক্রমেই কর্তন করা যাবে না। অন্য আর একটি তালিকায় বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষ প্রজাতির নাম উল্লেখ থাকবে। কর্তন নিষিদ্ধ প্রজাতির বৃক্ষ কর্তনের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, এবং অনুমতি সাপেক্ষে কর্তনযোগ্য বৃক্ষ, বিনা অনুমতিতে কর্তনের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই আদালত অপরাধীকে অতিরিক্ত দণ্ড হিসেবে ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের শাস্তিও প্রদান করতে পারবে।
কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থা বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভূমির অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নভাবে এক একরের নীচে কোনো বনভূমি থাকলে, অপরিহার্যতা ও জনস্বার্থে বিবেচনায় এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের অনুমোদনক্রমে বিনিময়ের অনুমতি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
এ আইনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উৎপাদিত বৃক্ষ প্রজাতি (যেমন-আগর) ছাড়া অন্যকোনো উদ্দেশ্যে কোনো প্রজাতির বৃক্ষে পেরেক বা ধাতব বস্তু দ্বারা ক্ষতি সাধন না করার বিধান রাখা হয়েছে, যা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, বন অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে সাধারণ করণীয় বিষয়েরও বিধান রাখা হয়েছে এ আইনে।



