
| রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 27 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ঢাকার সাত ট্রাফিক মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল বাতি স্থাপনের দুই মাস হতে চলল। শুরুতে এলোমেলো থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই শৃঙ্খলার মধ্যে এসেছে পরীক্ষামূলক এ সিগন্যাল ব্যবস্থা। লাল বাতি জ্বললে গাড়ি থেমে যাচ্ছে, সবুজ বাতি জ্বললে চলছে। ‘টাইমার’ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট সময় পর পর পরিবর্তিত হচ্ছে সিগন্যাল বাতির রঙ। যদিও ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে এখনো আগের মতোই ভূমিকা রাখছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। বাতির সঙ্গে সমন্বয় করে গাড়ির চলা-থামা তারাই নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এবার ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিগন্যাল বাতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা। কোনো গাড়ি সিগন্যাল অমান্য করলে তাৎক্ষণিক সে বার্তা পুলিশের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছে যাবে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই শেষে সিগন্যাল অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়ে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই।
রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে গত ১ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে সিগন্যাল বাতি চালু করা হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব বাতি তৈরি করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। বাতিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলতে ও নিভতে পারে, আবার ম্যানুয়ালিও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সিগন্যাল বাতি স্থাপনের এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আর পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া সাতটি ইন্টারসেকশনে স্থাপিত সিগন্যাল বাতিগুলো পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন। জানতে চাইলে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের এখানে বহু বছর কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা ছিল না। সেখান থেকে পরীক্ষামূলক সিগন্যাল বাতিগুলোর কার্যক্রম আমরা যত দূর আনতে পেরেছি, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আশাবাদী। ট্রাফিক সিগন্যালগুলোয় এখনো ছোট ছোট কিছু কাজ বাকি রয়ে গেছে। এগুলো শেষ করতে হবে। সোনারগাঁও ইন্টারসেকশনে একটু অসুবিধা রয়ে গেছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এখানে অবকাঠামোগত জটিলতা আছে। এটা বাদে অন্য ইন্টারসেকশনগুলো ভালোভাবে কাজ করছে।’
সিগন্যাল সম্পর্কে মানুষকে মোটামুটি বোঝানো গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা সিগন্যাল মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পরিকল্পনা করছি, রেড লাইট ভায়োলেশন ক্যামেরা বসাতে। যারা রেড লাইট ভায়োলেশন করবে, তাদের বিরুদ্ধে যেন অটোমেটিক্যালি মামলা হয়ে যায়।’
বিশেষায়িত ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে সিগন্যাল অমান্যকারীদের তথ্য পুলিশের কাছে চলে যাবে উল্লেখ করে শেখ মইনউদ্দিন বলেন, ‘ভায়োলেটকারীর তথ্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে চলে যাবে। যাচাই-বাছাইয়ের পর সেখান থেকে স্বয়ংক্রিভাবে মামলা ইস্যু করা হবে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যেভাবে ক্যামেরা ব্যবহার করে মামলা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে পরীক্ষামূলক ট্রাফিক সিগন্যালগুলোও চলবে।’
রাজধানী ঢাকায় এর আগেও একাধিকবার সিগন্যাল বাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বিভিন্ন সময় এসব বাতি স্থাপন করা হলেও সেগুলো তেমন কার্যকর হয়নি। ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় প্রথমবারের মতো সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয় ষাটের দশকে। তবে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণে ঢাকার ৬৮টি স্থানে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। তবে চালুর পর এসব বাতি খুব একটা কাজ করেনি, ২০০৯ সালের মধ্যে সবগুলোই অকার্যকর হয়ে পড়ে।
বিশ্বব্যাংকের ঋণে ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকায় সব মিলিয়ে ৯১টি ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল বাতি বসে। সেগুলোও কোনো কাজে আসেনি। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাইকার ঋণে ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। এ বাতিগুলোও অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে।



